শিক্ষাক্রমের মূলনীতি, রূপকল্প, অভিলক্ষ্য, স্তর ও শিখণক্ষেত্র বা যোগ্যতা

 

শিক্ষাক্রমের মূলনীতি, রূপকল্প, অভিলক্ষ্য, স্তর ও শিখণক্ষেত্র বা যোগ্যতা

শিক্ষাক্রমের মূলনীতি:

অভিলক্ষ্যসমূহের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম রূপরেখার রূপকল্পকে বাস্তব রূপদানের লক্ষ্যে দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কিছু মূলনীতি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই মূলনীতিসমূহ শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের দিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে, সেগুলো হলো-

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ, একীভূত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন, বহুমাত্রিক, যোগ্যতাভিত্তিক, অভিজ্ঞতাভিত্তিক

প্রাসঙ্গিক ও নমনীয়, জীবন ও জীবিকা-সংশ্লিষ্ট, অংশগ্রহণমূলক, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও আনন্দময়।

রূপকল্প:

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ, জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালনকারী, সৎ, নৈতিক মূল্যবােধসম্পন্ন, বিজ্ঞানমনস্ক, আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ, সৃজনশীল সুখী একটি প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে রূপকল্পটি নির্ধারিত হয়েছে।

এই রূপকল্পে এমন একটি প্রজন্মের স্বপ্ন দেখা হয়েছে, যারা স্বকীয়তা বজায় রেখে অপরের কল্যাণে নিবেদিত হওয়ার পাশাপাশি সমাজের ধর্ম-বর্ণ-গােত্র নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সচেষ্ট হবে।

একইসঙ্গে সৃজনশীলতা রূপান্তরযােগ্য দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে স্বাধীনতার সুফল নিশ্চিত করে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে।

এছাড়াও বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে আত্মপরিচয়ের বহুমাত্রিকতাকে স্বাগত জানিয়ে অভিযােজনে সক্ষম বিশ্বনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে।


অভিলক্ষ্য:

রূপকল্প অর্জনে প্রয়ােজন সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় কিছু কৌশলগত বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন। একটি কার্যকর পরিকল্পনা তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নই রূপকল্প অর্জন নিশ্চিত করতে পারে। রূপকল্প বাস্তবায়নের অভিলক্ষ্যসমূহ নিম্নরূপ-

. সকল শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা বিকাশে কার্যকর নমনীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন;

. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীর বিকাশ উৎকর্ষের সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তােলা;

. প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের বাইরেও বহুমাত্রিক শিখনের সুযােগ সৃষ্টি স্বীকৃতি প্রদান;

. সংবেদনশীল, জবাবদিহিমূলক একীভূত অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ;

. শিক্ষাব্যবস্থার সকল পর্যায়ে দায়িত্বশীল, স্ব-প্রণােদিত, দক্ষ পেশাদার জনশক্তি নিয়ােগ;

 

শিক্ষাক্রমের স্তর: প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা।

রূপরেখা-2021, বিস্তরণ-2022, বাস্তবায়ন-2023।

শিখণক্ষেত্র বা যোগ্যতা 10টি

১. ভাষা যােগাযােগ;
২. গণিত যুক্তি;

৩. বিজ্ঞান প্রযুক্তি;

৪. ডিজিটাল প্রযুক্তি;

৫. সমাজ বিশ্বনাগরিকত্ব;

৬. জীবন জীবিকা;

৭. পরিবেশ জলবায়ু;

৮. ধর্ম, মূল্যবােধ নৈতিকতা;

৯. শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা;

১০. শিল্প সংস্কৃতি;

বিস্তারিত...

যােগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত যে দশটি মূল যােগ্যতা অর্জন করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে সেগুলাে হলাে

১. অন্যের মতামত অবস্থানকে সম্মান অনুধাবন করে, প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নিজের ভাব, মতামত যথাযথ মাধ্যমে সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করতে পারা। 

২. যেকোনাে ইস্যুতে সূক্ষ্ম চিন্তার মাধ্যমে সামগ্রিক বিষয়সমূহ বিবেচনা করে সকলের জন্য যৌক্তিক সর্বোচ্চ কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নিতে পারা। 

৩. ভিন্নতা বৈচিত্র্যকে সম্মান করে নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক হয়ে নিজ দেশের প্রতি ভালােবাসা বিশ্বস্ততা প্রদর্শনপূর্বক বিশ্ব নাগরিকের যােগ্যতা অর্জন করতে পারা।

৪. সমস্যার প্রক্ষেপণ, দ্রুত অনুধাবন, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ তাৎপর্য বিবেচনা করে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যৌক্তিক সর্বোচ্চ কল্যাণকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সমস্যা সমাধান করতে পারা। 

৫. পারস্পরিক সহযােগিতা, সম্মান সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাসযােগ্য পৃথিবী তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারা। 

৬. নতুন দৃষ্টিকোণ, ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়ােগের মাধ্যমে নতুনপথ, কৌশল সম্ভাবনা সৃষ্টি করে শৈল্পিকভাবে | তা উপস্থাপন এবং জাতীয় বিশ্বকল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারা। 

৭. নিজের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়ে নিজ অবস্থান ভূমিকা জেনে ঝুঁকিহীন, নিরাপদ গ্রহণযােগ্য ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং বৈশ্বিক সম্পর্ক যােগাযােগ তৈরি করতে বজায় রাখতে পারা। 

৮. প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে ঝুঁকি সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে দূর্যোগ মােকাবিলা করতে পারা এবং নিরাপদ, সুরক্ষিত জীবন জীবিকার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে পারা। 

৯. পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে দৈনন্দিন উদ্ভূত সমস্যা গাণিতিক, বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে সমাধান করতে পারা। 

১০. ধর্মীয় অনুশাসন, সততা নৈতিক গুণাবলি অর্জন এবং শুদ্ধাচার অনুশীলনের মাধ্যমে প্রকৃতি মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়ােজিত করতে পারা।

 

 

 

 

 


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url