সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত পাঠদান কার্যক্রমের সাতকাহন-
বিশ্বব্যাপী
যখন করোনা (কোভিন-19) মহামরি আকারে ছড়িয়ে পড়ে, অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও এই
রোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য সামাজিক দূরত্বকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যান্য অফিস-আদালতের
সাথে সাথে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো
বন্ধ থাকাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীগণ যেন পাঠ
বিমুখ না হয়ে যায় সেই জন্যে সরকার হাতে নেয় এক মহান কর্মসূচি। প্রর্যায়ক্রমে
প্রাথমিক শিক্ষা থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি পর্যায়ে সংসদ
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও কিশোর বাতায়নে এই ক্লাসগুলো আর্কাইভের পাশাপাশি কিশোর বাতায়নে
লাইভ ক্লাস পরিচালনা শুরু হয়। পাঠদানের ধারা অব্যাহত রাখাতে সরকার ও সরকারের বিভিন্ন
মহলের এই মহতী উদ্যোগের প্রতি সাধুবাদ জানাই সেই সাথে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের পক্ষ
থেকে রইল কৃতজ্ঞতা।
সরকারের
এই উদ্যোগের পাশাপাশি, বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চালু হয়েছে ফেইসবুকভিত্তিক
লাইভ পাঠদান কার্যক্রম যেমন, CUMILLA ONLINE SCHOOL. কোন প্রতিষ্ঠান পর্যায়েও ফেইসবুক
লাইভ, জুম লাইভ ও বিভিন্ন পার্সোনাল ম্যাসেঞ্জারে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কিন্তু,
যেখানে
শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের সামনে বসিয়ে রেখে পড়াতে গিয়েও তাদের অন্যমনস্কতা,
উদাসীনতা, পাঠের প্রতি অনিহা আমাদেরকে সফল পাঠদানে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাড় করাতে
সেখানে এই ব্যবস্থাগুলো কতোটা কার্যকর?
সম্প্রতি
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠির আলোকে কোন প্রতিষ্ঠানের কতজন শিক্ষার্থী
সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন বা অনলাইনে ক্লাস করে থাকে এই তথ্য নিতে গিয়ে উঠে এল এক বিচিত্র
তথ্য।
সরেজমিনে
প্রাপ্ত তথ্যকে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও কিশোর বাতায়নের লাইভ ক্লাসের পক্ষ ও বিপক্ষ
দু’টি ক্যাটাগরিতে উপস্থাপন করছি।
প্রতিপক্ষ-
ü সকল শিক্ষার্থীর বাসায় সংসদ বাংলাদেশ
টেলিভিশন নেই; সেইটা হতে পারে শতকরা 10%। যেখানে ডিস সংযোগ নেই সেখানে এই সমস্যাটাই
প্রধান।
ü ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকা।
ü ক্লাসগুলো চলাকালীন সময়ে ভারতীয় বিভিন্ন
টিভি চ্যানেল বিশেষত: স্টার জলসা ও জি বাংলার মধ্যে রাতের অনুষ্ঠানগুলো পুন:প্রচার
হয় অতএব কারনে এই সময়ে টিভির রিমোর্ট থাকে পরিবারের ক্ষমতাশীন সদস্যের হাতে, সুতরাং
শিক্ষার্থী বঞ্চিত।
ü কিশোর বাতায়ন থেকে আর্কাইভ বা লাইভ ক্লাস
দেখার ক্ষেত্রে সকল পরিবারের স্মার্টফোন না থাকাটা একটা প্রধান কারন।
ü স্মার্ট ফোন থাকলেও ডাটা কেনার জন্য চওড়া
মূল্য পরিশোধ।
ü প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক স্লো।
ü ছোটেদেরতো মোবাইল নেই, বড়দের মোবাইলগুলো
শিক্ষার্থীদের হাতে না দেওয়া।
ü ক্ষেত্রবিশেষ শিক্ষার্থীরাও মোবাইল পেলে
পাঠগ্রহন ফাঁকি দিয়ে ইউটিউব ও গেম নিয়ে ব্যস্ত থাকা।
ü সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত কোন
কোন ক্লাসের ‘কালার কম্বিনেশন” ঠিক না থাকা। এক্ষেত্রে অবস্থা এমন হয় যে, রঙ্গিন ব্যাকগ্রাাউন্ডের
কারনে মূল লেখাটা পড়তে অসুবিধে হয়। আর যারা বর্ণান্ধ, তাদের বেলায় তো আরো খারাপ অবস্থা।
ü সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও কিশোর বাতায়নের
লাইভ ক্লাসগুলোর ব্যাপারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না থাকা।
ü বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রণোদনার অভাব।
***** বর্তমানে সারা দেশে বুরো ধান সংগ্রহ
চলছে। শিক্ষার্থীরা এই সময়ে বাড়িতে বুরো ধান সংগ্রহ, ধান মাড়াই, খড় শুকানো এই জাতীয়
গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকছে।
পক্ষের
তথ্য-
ü সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও কিশোর বাতায়নে
প্রচারিত ক্লাসগুলোর ব্যাপারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন। যেমন, যদি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা
হয় তাহলে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত পাঠগুলো থেকেই প্রশ্ন আসবে।
ü যদি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা না হয় তাহলে
বার্ষিক পরীক্ষা, জেএসসি, পিএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় এইসব অধ্যায়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে
প্রশ্ন প্রণয়ন করা হবে।
ü অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে অন্যান্য টেলিভিশনে
বুলেটিন আকারে তথ্য প্রকাশ করা, যেমন- “প্রিয় অভিভাবক, আপনার সন্তানকে সংসদ বাংলাদেশ
টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসে অংশগ্রহন করার জন্য উৎসাহিত করুন ও সুযোগ দিন।” প্রচারিত
এই পাঠগুলো থেকে সামনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অগ্রাধিকার থাকবে, ইত্যাদি।
ü সম্ভব হলে সরকারি নিদের্শনার মাধ্যমে
বিভিন্ন অপারেটরের ডাটার মূল্য কমিয়ে আনা যেন সকল শিক্ষার্থী এই সুযোগটি ব্যবহার করতে
পারে।
ü সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসের
সাউন্ড উন্নত করা(ক্ষেত্রবিশেষ: অনেক স্লো সাউন্ড হয়ে থাকেভ)
ü প্রজেক্টরে প্রচারিত ক্লাস রেকর্ডের ক্ষেত্রে
ভিন্ন রং ব্যবহার না করে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো বর্ণের লিখা ব্যবহার করা।
ü বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধানের
ব্যবস্থা করা।
পুনশ্চ:
সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন, কিশোর বাতানসহ সারাদেশের অনলাইনে পাঠদানকারি সকল শিক্ষক ও
সংশ্লিষ্টদের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে
বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়ে সুন্দর পৃথিবীতে মুক্ত ভ্রমণের সুযোগ দিন সেই প্রত্যাশায়-
মো:
কবির খান
ধন্যবাদ, বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য
আপনাকেও ধন্যবাদ।